স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট Class 6,7,8,9,10,11,12

সম্মানিত প্রিয় পাঠক , আপনারা যারা স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট নিয়ে খুজাখুজি করতেছেন তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন । আপনি যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে আপনি খুব সহজে স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট লিখতে পারবেন । যারা নিজের দেশকে ভালোবাসে তার এই রচনা খুঁজে ।

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট আপনি যদি একবার ভালো করে মন দিয়ে পড়েন তাহলে আপনার সারাজীবন মনে থাকবে । স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যা আপনারা আপনাদের চোখের ইশারায় মুকস্ত করে নিতে পারবেন । 

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

সুচনা : মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার জন্মস্থান কে ভালোবাসে । জন্মস্থানের আলো-জল-হাওয়া , পশু-পাখি এবং সবুজ প্রকৃতির সাথে তার নিবিড় সম্পর্কে গড়ে ওঠে । স্বদেশ প্রেম মানুষের মহৎ গুণাবলির অন্যতম । একজন ব্যক্তি যে দেশের জন্মগ্রহণ করেছে , যে দেশের মাটি , আলো , বাতাসে তার জীবন বিকশিত হয়েছে আর সেটাই হলো তার স্বদেশ ।

সার্থক জনম মা গো জন্মেছি এই দেশে

সার্থক জনম মা গো তোমায় ভালবেসে

স্বদেশ্র প্রতি প্রেম ভালোবাসা থাকা একান্তই গুরুত্বপূর্ণ । জাতির কল্যাণের জন্য স্বদেশপ্রেমের বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দিতে হবে সবার আগে । আর এজন্য স্বদেশ প্রেমের প্রতি সর্বদা সব সময় সময় সচেতন থাকতে হবে । জন্মস্থানের প্রতিটি ধুলিকণা তার কাছে মনে হয় সোনার চেয়েও দামি । সেই উপলব্ধি করে কবি বলেছেন—

মিছা মণি মুক্তা-হেম
স্বদেশের প্রিয় প্রেম
তার চেয়ে রত্ন নাই আর
সকল মানুষের এই উপলব্ধি হচ্ছে দেশপ্রেম ।

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট
স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেম কি : নিজ দেশ ও জাতি এবং মাতৃভাষার প্রতি তীব্র আকর্ষণ ও আনুগত্যই দেশপ্রেম বলে । সহজ কথায় স্বদেশপ্রেম হচ্ছে নিজের দেশকে ভালোবাস । লোকে বিদেশে গেলে আজন্মের স্মৃতিঘেরা জন্মস্থানের জন্য তার মন কাঁদে । বিদেশে দীর্ঘদিন থাকতে হলেও জন্মভূমির টান কাটাতে পারে না । স্বদেশের প্রতিটি জিনিস তার কাছে পরম মমতার বলে মনে হয় ।

গর্ভধারিণী জননী কে যেমন তার সন্তানকে ভালোবাসে ঠিক তেমনি দেশ মাতৃকার মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই শ্রদ্ধা করতে এবং ভালোবাসতে শেখে । দেশ ও দশের প্রতি মানুষের যে বন্ধন ও আকর্ষণ তা থেকেই স্বদেশপ্রেমের জন্ম হয় । জননী জন্মভুমি স্বর্গের চেয়েও মহিমায় দীপ্ত । কবির ভাষায় স্বদেশপ্রেমী মানুষের একটাই প্রার্থণা –

আমার এই দেশেতেই জন্ম যেন এই দেশেতেই মরি ।

স্বদেশ প্রেমের সংজ্ঞাঃ স্বদেশ প্রেম অর্থ হচ্ছে নিজের দেশের প্রতি , জাতির প্রতি , ভাষার প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করা । দেশের প্রতি প্রবল অনুরাগ ও নিবিড় ভালোবাসা এবং যথার্থ আনুগত্যকে দেশপ্রেম বলে । জন্মভূমির স্বার্থে সর্বস্ব ত্যাগ সাধনা হলো স্বদেশপ্রেম ।

প্রত্যেক ব্যক্তি নিজেকে অনেক বেশি ভালোবাসে । আর নিজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা । প্রতিটি জীবের মধ্যেই এই গুন বিদ্যমান পশু বনভুমি ছেড়ে লোকালয়ে ছটফট করে । আবার পাখিকে নীড়চুত করলে তার মর্মভেদী আর্তনাদ বাতাস ভারি করে তোলে । 

এই ভালোবাসা হয় নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকেই । আর নিজ আবাসের প্রতি ভালোবাসা থেকেই জন্ম নেয় স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা । স্বদেশের মাটি বাতাস , পানির সাথে আমরা অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ থাকি সর্বদা ।তাই এগুলোর প্রতি মমত্ববোধ থেকেই সৃষ্টি হয় স্বদেশপ্রেম ।

স্বদেশ প্রেমের অভিব্যক্তি : নিজের প্রতি আমাদের যেমন ভালোবাসা প্রকাশ পায় তেমনি স্বদেশের প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে প্রতিটি মুহুর্তে । দেশের দুর্দিনে দেশপ্রেমের পূর্ণ বিকাশ ঘটে এবং জন্মভুমি জননীর মতো সন্তানের দিকে কাতর নয়নে তাকায় । একজন ব্যক্তি ছোট বেলা থেকেই স্বদেশের আলো-বাতাসের আচলে মাতৃতূল্য স্নেহে বড় হতে থাকে ।

আমাদের জননীর বেদনায় সন্তানের হ্রদয় হয় বিদীর্ণ । জলাশয় থেকে বিচ্ছিন্ন করলে মাছ যেমন জলের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে তেমনি প্রবাস জীবনেও মানুষের স্বদেশপ্রেম প্রতিটি মুহুর্তে হয়ে উঠে । দীর্ঘ প্রবাস জীবনের পর স্বদেশে ফিরলে মনের অজান্তেই বেজে উঠে–

আমার কুটির খানি

সে যে আমার হ্রদয় রাণী

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট
স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেমের স্বরুপঃ স্বদেশ অর্থ নিজের দেশ । নিজের দেশকে সবাই ভালোবাসে । মাকে যেন সবাই নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে ঠিক তেমনি স্বদেশের প্রতি ও সবার ভালবাসা সকল স্বার্থের ঊর্ধ্বে । প্রত্যেক মানুষেরই কথায় , চিন্তায় ও কাজে প্রকাশ পায় স্বদেশের প্রতি নিবিড় মমত্ববোধ ।

এই বোধ বা চেতনা হ্রদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত । তাই এডউইন আর্নল্ড বলেছিলেন , জীবনকে ভালোবাসি সত্যি , কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয় । সংস্কৃত শোকে আছে জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী । অর্থাৎ জননী ও জন্মভুমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ।

মানুষ পৃথিবীর আধিবাসী হলেও নির্দিষ্ট ভূখন্ডের মধ্যে তার জীবন আবর্তিত হয় । তার পরিচয় হয় একটি বিশেষ দেশের অধিবাসী হিসেবে । এই দেশ আমার মাতৃভূমি , আমার জন্মভূমি তার নাম স্বদেশ । এই স্বদেশের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসাই হলো স্বদেশপ্রেম ।

মাটির সঙ্গে মানুষের প্রাণের সংযোগ ঘটে শিশুকাল থেকেই । মানুষ তার মাতৃভূমি বুকে জন্মগ্রহণ করে এর ভালোবাসার উত্তাপে জীবনকে বিকশিত করে তুলে । দেশের মাটি তাকে আশ্রায় দেয় তার ফসল , আলো বাতাস দিয়ে তার দেহের পুষ্টিসাধন করে । এর ফলে তার মনে মাতৃভূমির প্রতি প্রবল মমত্ববোধ জাগ্রত হয়ে । আর এই মমত্ববোধ থাকার নামই হলো স্বদেশপ্রেম ।

স্বদেশ প্রেমের অনুভূতি : দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ থেকে জন্ম হয় স্বদেশ প্রেমের । পৃথিবীর সব জায়গায় আকাশ , চাঁদ , এক হলেও স্বদেশপ্রেমের চেতনা থেকে মানুষ নিজের দেশের চাদ-সূর্য ও আকাশকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করে ভালোবাসে ।

স্বদেশপ্রেমের অনুভুতি সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয় দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলে । তখন স্বদেশপ্রেমের প্রবল আবেগে মানুষ নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করে না । কেননা সে জানে দেশের জন্য নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই ।

মানব চরিত্রের গুণাবলী বিকাশের ক্ষেত্রে স্বদেশ প্রেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । স্বদেশপ্রেমের কারনে দেশ ও জাতির জন্য কল্যান চিন্তা জাগ্রত হয় ফলে জনসেবার অনুভুতি মনে সঞ্চার হয় । ফলে একজন মানুষ দেশের একজন সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে ওঠে ।

ছাত্র জীবনে স্বদেশপ্রেম : ছাত্ররাই দেশের ও জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার । দেশের উন্নতি ও জাতির আশা পূরণের আশ্রয়স্থল । তাই দেশ ও জাতির প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছাত্রজীবনেই জাগিয়ে তুলতে হবে । দেশকে ভালোবাসার উজ্জীবন মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে ।

ছাত্রদের দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ করতে পারলেই দেশের স্বার্থে প্রয়োজন জীবন উতসর্গ করার আগ্রহ সৃষ্টি হবে । তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হবে বিদ্রোহী কবির বাণী–

আমরা রচি ভালোবাসার আশার ভবিষ্যত
মোদের স্বর্গ-পথের আভাস দেখায় আকাশ-ছায়াপথ ।
মোদের চোখে বিশ্ববাসীর স্বপ্ন দেখা হোক সফল ।
আমরা ছাত্রদল

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

স্বদেশ প্রেমের বহিঃপ্রকাশ : স্বদেশের প্রতি প্রেম সর্বদাই উদার এবং খাঁটি । এর প্রেম আত্নপ্রেমকে ও ছাড়িয়ে যায় । স্বদেশের প্রতি প্রেমের এই নিতান্ত সত্য দিকটি এডুইন আর্নলেন্ডের ভাষায় চমৎকার ফুটে উঠে –

জীবনকে ভালোবাসি সত্য 

কিন্তু দেশের চেয়ে বেশি নয় 

প্রকৃত অর্থে স্বদেশপ্রেমী কখনও ছোট মন মানসিকতার অধিকারী হয় না । নিজ স্বদেশের কল্যাণ ও উন্নতি কি করে করা যায় তাই একজন প্রকৃত স্বদেশপ্রেমীর চিন্তার মূল্য বিষয় । তার দেহ ও মনের সব কিছু স্বদেশের দানে পরিপূর্ণ।

স্বদেশ প্রেমের বৈশিষ্ট্য : স্বদেশ প্রেম মানব চরিত্রের এক স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য । স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধে অংশগ্রহণ যেমন দেশ প্রেমের পরিচয় বহু করে ঠিক তেমনি সাহিত্য শিল্পকলা বা অন্যান্য জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে কাজ করাও দেশপ্রেমের লক্ষণ ।

তাই আমাদের প্রত্যেকের কাজ হবে যার যার ক্ষেত্রে দেশের কল্যাণে কথা চিন্তা করে দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন দেশকে জানতে শেখায় এবং ভালোবাসতে শেখায় । স্বদেশ প্রেমের মাধ্যমেই বিশ্বপ্রেমের এগিয়ে যাওয়া যায় । ফলে মানবতার মহান আদর্শের সম্প্রসারণ ঘটে ।

স্বদেশ প্রেম যত সেই মাত্র অবগত
বিদেশেতে অধিবাস যার
ভাব তুলি ধ্যানে ধরা
চিত্রপট চিত্র করে
স্বদেশের সকল ব্যাপার ।

স্বদেশপ্রেম শিক্ষা : দেশকে ভালোবাসতে শিখলেই দেশের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার মনোবৃত্তি গড়ে উঠবে । যদিও স্বদেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি করে তার পরেও এ গুণটী অর্জন করতে হয় । এ গুণ অর্জনের জন্য দেশের সুদিন দেশের উন্নয়নের ততপর থাকতে হবে ।

একজন ব্যক্তি স্বদেশ প্রেমিক তখন হতে পারবে যখন সে ব্যক্তি নিজ দেশ সম্পর্কে পূঙ্গ জানতে পারবে । দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতে পারে । দেশপ্রেমের মহৎ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যাবে । এই জন্য আমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রত্যেক মানুষকে তার নিজ দেশ সম্পর্কে জানা ।

বাঙালির দেশপ্রেম : পৃথিবীতে যুগে যুগে অসংখ্য দেশপ্রেমিক জন্মেছে । তারা দেশের জন্য জীবন উতসর্গ করে অমর হয়ে আছেন । বাংলাদেশে ও তার অজস্র দৃষ্টান্ত রয়েছে । প্রাচীনকাল থেকে এ দেশে বিদেশি শক্তি প্রভুত্ব বিস্তারের চেষ্টা করছে । আমাদের স্বদেশপ্রেমিক বাঙালি দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার্থে অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে ।

১৯৫২ সালে পাকিস্তানি স্বৈর-শাসকের হাতে বাংলা-ভাষার জন্য রফিক , শফিক , সালাম , জব্বার , বরকতের আত্মদান দেশ প্রেমের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে । ১৯৭১ এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদান করেছে অসংখ্য ছাত্র-শিক্ষক , কৃষক-শ্রমিক , সাংবাদিক , বুদ্ধিজীবী , মা-বোনসহ সাধারণ মানুষ ।

অকুতোভয় শত শস্র এ সৈনিকের দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল । এখনো এদেশের লক্ষ কোটি জনতা দেশের সামান্য ক্ষতির আশঙ্কায় বজ্রকন্ঠে গর্জে ওঠে । এদেশের মানুষের মুখে একটি কথা , দেশের যেকোন সমস্যার সমাধানে আমরা সব সময় একসাথে গর্জে উঠবো ।

উদয়ের পথে শুনি কার বাণী
ভয় নাই ওরে ভয় নাই
নিঃশেষে প্রাণ , যে করিবে দান
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই

দেশপ্রেমের গুরুত্ব : ইসলাম স্বদেশ প্রেম ঈমানের অঙ্গ বলে ঘোষণা করেছে । নিজের দেশের প্রতি যার ভালোবাসা নেই সেই ব্যক্তি পূর্ণঙ্গ মুমিন নয় । রাসূল সঃ ইরশাদ করেছেন , যারা দেশ রক্ষার জন্য বিনিদ্র রাত কাটায় তাঁদের জন্য রয়েছে জান্নাত । অতএব দেশকে ভালোবাসারা প্রত্যেকের ঈমানী দায়িত্ব ।

স্বদেশপ্রেম ও বিশ্বপ্রেম : স্বদেশপ্রেম মূলত বিশ্ব প্রেমেরই একটি অংশ । কেননা বিশ্বের সব মানুষই পৃথিবী নামক এই ভূখণ্ডের অধিবাসী । তাই স্বদেশ প্রেমের মাধ্যমে সকলেরই বিশ্বভ্রাতৃত্ব , মৈত্রী ও বিশ্ব মানবতাকে উচ্চকিত করে তুলতে হবে । কারণ বিশ্বজননীর আচল-ছায়ায় দেশজননীর ঠাই ।

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেজন্যই গেছেন—
ও আমার দেশের মাটি , তোমার পরে ঠেকাই মাথা
তোমাতে বিশ্বময়ীর , তোমাতে বিশ্ব মায়ের আচল পাতা ।

স্বদেশ প্রেমের প্রয়োজনীয়তা : একটি দেশের উন্নয়নের জন্য নাগরিকদের স্বদেশপ্রেম জোরদার হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ । স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলেই দেশ ও জাতির সংকটে আত্নত্যাগে উৎসাহিত হয় মানুষ । সব কাজের সফলতার মূল । স্বদেশ প্রেমের নৈতিক শক্তি অনেক । বিভিন্ন ধর্মে ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করা হয়েছে । ইসলামে বলা হয়েছে দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ ।

প্রাচীন হিন্দু ঋষি বলেছেন জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী । এর অর্থ মা ও মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ । দেশপ্রেমের বলেই ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিবাহিনী মরণপন লড়াই করে স্বাধীওনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছি । দেশকে শত্রু মুক্ত করতে রক্ত দিয়েছেন লাখো মুক্তিসেনা ।

স্বদেশ প্রেমের বিকাশ : দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি খুব বেশি আকর্ষণ থেকে জমা হয় স্বদেশপ্রেমের । পৃথিবীর সব জায়গায় আকাশ , চাঁদ , সূর্য এক হলেও স্বদেশের প্রতি প্রেম সচেতনা থেকে মানুষ নিজের দেশের চাঁদ , সূর্য আকাশকে আলাদা করে ভালোবসে ।স্বদেশ প্রেমের প্রবল আবেগে মানুষ নিজের জীবন দিতেও দ্বিধা করে না ।

 স্বদেশপ্রেমের অনুভুতি সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয় দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হলে । দেশের কল্যাণে ও অগ্রগতিতে বিশেষ ভুমিকা রাখে । বিশ্বসভায় অবদান রাখে দেশের গৌরব বাড়ানো যায় স্বদেশপ্রেমের মাধ্যমে । তাই তো মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জন্মভূমির প্রতি মানুষের তীব্র আবেগ কাব্যে প্রকাশ করেছেন এই ভাবে –

আমার দেশেরও মাটির গন্ধে
ভরে আছে এই মন
শ্যামল কোমল পরশ ছাড়া
নেই কিছু প্রয়োজন ।

স্বদেশপ্রেমের উপায় : এই পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নেই যেই ধর্মে দেশকে ভালোবাসার নির্দেশ দেওয়া হয় নি । দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মত্যাগকে সবচাইতে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে । দেশের প্রত্যেক নাগরিকের নিজ দায়িত্বে তার নিজ কর্মের সীমারেখায় স্বদেশপ্রের পরিচয় দেয় । 

স্বায়ী দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে পালন করার মধ্যে দেশপ্রেম নিহিত হয় । জাতির জন্য দেশের জন্য প্রত্যেক মানুষের তা সে ছোটই হোক কি বড়ই হোক তা কিছু না কিছু করার আছে । জাতির জন্য যদি কিছু অবদান রাখা যায় তাহলে তাতে দেশপ্রেমের নির্দেশনা থাকে ।

স্বদেশের উপকারে নাই যার মন

কে বলে মানুষ তারে পশু সে জন ।

স্বদেশ প্রেম রচনা ২০ পয়েন্ট

উপসংহার : 

দেশপ্রেম একটি নিঃস্বার্থ ও নির্লোভ আত্ম-অনুভুতি । কোনো প্রকার লোভ বা লোভের বশবর্তী হয়ে দেশকে ভালোবাসা যায় না । প্রকৃত দেশ প্রেমিকের কাছে দেশের মঙ্গলই একমাত্র কাম্য । দেশের জন্য তার সর্বস্ব দান করতে পারে ।

স্বাধীনতাহীনতায় কে বাচিতে চায় হে
কে বাঁচিতে চায়
দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় 
হে কে পরিবে পায় ।

তাঁদের শৌর্য-বীর্য ও চারিত্রিক দৃঢ়তা আবহমানকাল ধরে জাতিকে প্রেরণা যোগায় । কাজেই ব্যক্তিস্বার্থ নয় , দেশ ও জাতির স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিতে হবে । দেশ গড়ার কাজে , দেশের জন্য মঙ্গলজনক কাজে আমাদের সকলকে নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে । সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে সমগ্র বিশ্বকে ভালোবাসতে শিখতে হবে । তবেই অর্জিত হবে স্বদেশপ্রেমের চুড়ান্ত সার্থকতা ।

আমাদের banglatipsbd সাইটে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আশা করি আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে । আপনার সুন্দর একটা মতামত দিন আমাদের সাইট সম্পর্কে । আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে কোন প্রকার হেল্প নিতে চান তাহলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে থাকেন । আপনাদের মন চাইলে আপনারা আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো দিয়ে রাখতে পারেন আর হ্যাঁ পারলে আমাদের ইউটুব চ্যানেল থেকে ঘুরে আসতে পারেন । আবারো ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *