বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

আসলামুলাইকুম প্রিয় পাঠক আপনারা কি বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট খুজতেছেন তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন । আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে একবার পড়েন তাহলে একবারই আপনার মুখস্ত হয়ে যাবে এই রচনাটি যা আর কখনো ভুলে যাবেন না ।

বর্তমান সময় পরিক্ষার খাতায় এই রচনাটি সব থেকে বেশি আশার সম্ভাবনা থাকে । আর এই জন্য আমরা আপনাদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট নিয়ে এসেছি । যা আপনি এক শেষ পর্যন্ত পড়লে চিরদিন মনে থাকবে সেই ভাবে এই রচনাটি সাজানো হয়েছে । আর হ্যাঁ ফুল মার্ক পাবেন , যদি আপনি আমাদের এই রচনার ২০ পয়েন্ট ভালোভাবে লেখেন ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

ভূমিকা : ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ আমাদের বাংলাদেশ । বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসক এ দেশকে শাসন করেছেন । তারা তৈরি করেছেন বিভিন্ন সুরম্য প্রাসাদ , মন্দির , মসজিদ ইত্যাদি । এগুলো এখন আমাদের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে । এ ছাড়া আমাদের দেশ প্রাকৃতিকভাবেও মনোরম । এ দেশের বন পাহাড় সমুদ্র , জঙ্গল ও আমাদের দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে ।

পর্যটন ও পর্যটন শিল্পের ধারণা : পর্যটন হলো এক ধরনের বিনোদন । অবসর যাপন অথবা ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে ভ্রমণ করাকে পর্যটন বলে । ভ্রমণের সময় প্রয়োজন হয় পরিবহন ব্যবস্থার , থাকার জন্য আবাসন , খাবার জন্য প্রয়োজন রেস্তরা , কেনা কাটা করার জন্য দোকান আর এই সকলের সময়ন্বয়ে যে শিল্প গড়ে উঠে তাকে বলা হয় পর্যটন শিল্প ।

সভ্যতার শুরু থেকেই পর্যটনের ধারণা চলে আসতেছে মানুষ দেশ বিদেশ দেখার তাড়নায় ছুটে চলছেন মাইলের পর মেইল । পাড়ি দিতেছেন দেশ বিদেশ দেখার পাড়ি দিতে সমুদ্র । তাঁদের একজন কলম্বাস আবিষ্কার করেন আমেরিকা । আমাদের বাংলা প্রাচীন কাল থেকেই তার সৌন্দর্য ও শিল্পের জন্য বিশ্বে পরিচিত ছিল । 

বাংলাদেশের পর্যটন স্থান : বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পর্যটন স্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো – দিনাজপুর কান্তজী মন্দির , নওগাঁ পাহাড়পুর , বগুড়া মহাস্থান গড় , নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি , উত্তরা গণভবন , রানি ভবানীর বাড়ি , পুঠিয়ার জমিদার বাড়ি ,গাজীপুরের ভাওয়াল রাজ বাড়ি , ঢাকার আহসান মঞ্জিল , নারায়ণগঞ্জের সোনার গাঁ , কুমিল্লার ময়নামতি ইত্যাদি । প্রাকৃতিক পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: দিনাজপুরের রামসাগর , নাটোরের চলনবিল , নেত্রকোনার বিড়ীসিরি , সিলেটের জাফলং ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ইত্যাদি ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

পর্যটন স্থান হিসেবে নাটোর : রাজশাহী বিভাগের একটি জেলা শহর নাটোর । এর উত্তরে রয়েছে নওগাঁ ও বগুড়া জেলা , দিক্ষনে পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা , পূর্বে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিম রাজশাহী জেলা অবস্থিত । নাটোর জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বেশ প্রাচীন ও সমৃদ্ধ । এখানে ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক উভয় ধরেন পর্যটন স্থান রয়েছে ।

নাটোরের ঐতিহাসিক স্থান : ১৮৬৯ সালে নাটোর মহকুমা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় । পরবর্তীকালে নাটোর পূর্ণাঙ্গ জেলায় পরিণত হয় । প্রাচীন শহর হওয়ায় নাটোরে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা লক্ষ করা যায় । তার মধ্যে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি ও ছোট তরফ রাজবাড়ি উল্লেখযোগ্য । রানি ভবানীর কীর্তি নাটোরের মানুষ এখনো শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে ।

রানি ভবানীর কীর্তি : একজন দক্ষ জমিদার প্রজা দরদি হিসেবে রানি ভবানীর নাম সর্বজনবিদিত । তিনি অনাড়স্বর জীবন যাপনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ হিতৈষী ও উদার মনোভাবের অধিকারী ছিলেন । তিনি শত শত মন্দির , অতিথিশালা ও রাস্তা নির্মাণ করেন । প্রজাদের পানীয় জলের অভাব দূর করার জন্য তিনি অনেক গুলো পুকুর খনন করেন । তিনি শিক্ষা বিস্তারে আগ্রহী ছিলেন ।

দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি : নাটোর শহর থেকে প্রায় ২.৪০ কিলোমিটার দূরে দিঘাপতিয়া রাজ বাড়ি অবস্থিত । রাজা দয়ারাম রায় এ রাজ বাড়ি প্রতিষ্টা করেন । কিন্তু ১৮৯৭ সালে নাটোরে এক ভয়াবহ ভুমিকম্প হয় । এতে দিঘাপতিয়া রাজ বাড়ি মারাত্নক ক্ষতি গ্রস্থ হয় । এর পরে দেশি বিদেশি স্থপতি ও শিল্পীদের দ্বারা রাজা প্রমদানাথ রায় রাজবাড়িটি পুননির্মাণ করেন ।

এ রাজ বাড়ি প্রায় ৪৩ একর জমির উপর নির্মিত । সমস্ত রাজবাড়িটি উঁচু দেয়াল দ্বারা আবৃত । রাজ বাড়িতে ঢোকার মুখে একটি সিংহ দ্বার আছে । এ সিংহদ্বারের দুই পান্তে দুটি কামান রয়েছে এবং মাথার উপরে আছে একটি সুদৃশ্য বড় ঘড়ি । মূল ভবনের ভেতরের সাজসজ্জা ও আসবাবপত্র এখন মানুষকে বিস্মিত করে ।

ভবনের পেছন দিকে রয়েছে একটী বাগান । এখানে দুষ্প্রাপ্য অনেক গাছ আছে । সমস্ত রাজ বাড়িটি একটি গভীর ঝিল দ্বারা পরিবেষ্টিত । ১৯৬৭ সালে তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খান দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে , দিঘাপতিয়া গভর্নর হাউস , হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন । বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজ বাড়িকে উত্তরা গভবন নামে স্বীকৃতি প্রদান করেন ।

ছোট তরফ রাজ বাড়ী : নাটোর জেলার বঙ্গজল নামক স্থানে ছোটতরফ রাজবাড়ি অবস্থিত । রাজা চন্দ্রনাথ রায় , যোগেন্দ্রনাথ রায় , জীতেন্দ্রনাথ রায় ও বীরেন্দ্রনাথ রায়ের তত্ত্বাবধানে রাজ বাড়িটি পরিচালিত হত । বর্তমানে এটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে রয়েছে । ছোট তরফের ভেতরে অনেকগুলো গভীর পুকুর রয়েছে । রাজ বাড়ির সীমার মধ্যে মন্দির রয়েছে সাতটি । এ ছাড়া দুটি বড় ভবন এবং বেশ কয়েকটি ছোট ভবন আছে ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

চলন বিল : নাটোরের প্রাকৃতিক পর্যটন স্থান গুলোর মধ্যে চলন বিল একটি । বর্ষার সময় চলন বিল পানিতে ভরে যায় । তখন এর সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে অনেক পর্যটন এখানে বেড়াতে আসে । চলন বিলের উপর নৌকায় ঘুরে তারা এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে উপভোগ করে ।

নাটোরের কাঁচাগোল্লা : ঐতিহাসিকভাবে নাটোরের কাঁচাগোল্লা মিষ্টি সুপ্রসিদ্ধ । দুধ দ্বারা কাঁচাগোল্লা প্রস্তুত করা হয় । শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বব্যাপী এ মিষ্টির খ্যাতি আছে ।

পর্যটন মহাস্থানগড় : বাংলাদেশে যে কয়টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আছে তার মধ্যে প্রাচীনতম তন্নধ্যে হলো মহাস্থান গড় । এখানে সর্বপ্রাচীন ও সর্ববৃহৎ নগর পুন্ড্রনগর ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান ।

অবস্থান ও গঠন : করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই পুরাকীর্তিটী বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত । চতুষ্পাশ্বের কৃষিজমির চেয়ে গড়ে প্রায় ৫ মিটার উচ্চে অবস্থিত এই দৃষ্টিনন্দন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি একটি আয়তাকার ঢিবি । যার দৈর্ঘ্য ১৫২৪ মিটার এবং প্রস্থ ১৩৭০ মিটার । 

আয়তাকার এই ধবংসস্তুপটি পূর্ব-পশ্চিমে নদী সমতল থেকে ছায় মিটার উঁচু একটি প্রতিরক্ষা প্রাচীর দিয়ে পরিবেষ্টিত এবং উত্তর , পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক একটি গভীর পরিখা দ্বারা বেষ্টিত ছিল । ১৮৭৯ সালে এই ধ্বংস শেষে প্রথম খনন কার্য চালানো হয় । খনন কার্যের ব্রাক্ষী লিপিতে লেখা পূর্ণনগর ফলক পাওয়া যায় ।

এ থেকে মনে করা হয় যে নগরটি মৌর্যদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । এর পরবর্তীতে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের খনন কার্যের ফলে প্রাপ্ত যে সাংস্কৃতিক কর্ম কান্ডের নিদর্শন পাওয়া গেছে তা সাতটি যুগকে চিহ্নিত করা হয়।

প্রথম যুগ : এ যুগে রয়েছে প্রাক মৌর্য যুগের পুরাকীর্তি । বিপুল পরিমাণে উত্তর ভারতীয় কালো মসৃণ পাত্র , লাল ও ধূসর রঙের পাত্র , পাথরের যাতা , চুলা , মাটির ঘর প্রভৃতি এ সময়ের স্বাক্ষর বহন করে ।

দ্বিতীয় যুগ : এ যুগের প্রত্নসম্পদের মধ্যে রয়েছে ভাঙা টালি , পোড়ামাটির পাতকুয়া , রিং স্টোন , ব্রোঞ্জের আয়না , পোড়ামাটির জীবজন্তু ও পাথরের গুটি ইত্যাদি । এগুলো মৌর্য যুগের নিদর্শন ।

তৃতীয় যুগ : এ যুগে পাওয়া যায় ইট ও পোড়ামাটির স্থাপত্য , পাথর পুতি , রোউপ্যনির্মিত তৈজসপত্র ও অলঙ্কার । এগুলো মৌর্য যুগের পরবর্তী সময়কে নির্দেশ করে ।

চতুর্থ যুগ : এ যুগের নিদর্শন শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য মন্ডিত প্রচুর পোড়ামাটির  ফলকচিত্র , খোদাই ও নকশাসহ রান্নার পাত্র । কাচের চুড়ি ও পোড়ামাটির মোহর । অনুমান করা হয় এগুলো কুষাণ গুপ্ত যুগের নিদর্শন ।

পঞ্চম যুগ : এ যুগে গুপ্ত ও গুপ্তোত্তর যুগের পরিচয় বহন করে । ইট নির্মিত বিশাল মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ , পোড়ামাটির ফলক , সিলমোহর ,কাচ , পাথর , লোহার দ্রব্য ও ছাপ দিয়ে নক্সা করা পাত্র ইত্যাদি এ যুগের নিদর্শন ।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প রচনা ২০ পয়েন্ট

ষষ্ঠ যুগ :  এ যুগটি পাল যুগকে বলা হয় । এ যুগটি সব চেয়ে সমৃদ্ধ । এ যুগে মানকালীর  কুন্ডধাম পরশুরামের প্রাসাদ বৈরাগীর ভিটা এবং নগরের বাইরে বহুসংখ্যক বৌদ্ধ উমারতের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদেশন পাওয়া যায় ।

সপ্তম যুগ : এ যুগে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মুসলিম সংস্কৃতি বহন করে । ১.৫ গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদের ধ্বংসাবশেষ  এ যুগের অন্যতম নিদর্শন । 

মহাস্থান ব্রাক্ষীলিপি : বগুড়ার মহাস্থানগড়ে ব্রাক্ষীরিতিতে উতকীর্ণ একটি খন্ডিত শিলালিপি পাওয়া গেছে । আনুমানিক তৃতীয় খ্রিষ্টাব্দে এটি লিখিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয় । এটি হচ্ছে বাংলার প্রাচীনতম লিপি তাত্ত্বিক দলিল । এই লিপির ভাষা মাগধী প্রভাবিত প্রাকৃত ভাষা । এই লিপিতে শহর ও শহর তলির অধিবাসীদের দুর্দশা দূর করার নির্দেশ দেয়া আছে । 

পুন্ড্রবর্ধন অঞ্চলে বিনিময়ের মাধ্যমে হিসেবে কড়ি প্রচলনের বিষয়েও আলোকপাত করে । বগুড়ার মহাস্থানগড়ের এই ঐতিহাসিক নিদর্শন বাংলায় প্রথম নগরায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে । একে রক্ষণাবেক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব ।

পর্যটন স্থান সুন্দরবন : সুন্দরবন পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন । এ বনের ৬২ শতাংশ বাংলাদেশের খুলনা জেলায় এবং বাকি ৩৮ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশপরগনা জেলায় অবিস্থিত । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সুন্দরবন অভুলনীয় এবং জীব বৈচিত্র্যে অসাধারণ । সুন্দরবন একটি একক ইকোসিস্টেম । এটি শুধু বাংলাদেশের নয় বিশ্বের প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছেও একটি আকর্ষনীয় স্থান ।

সুন্দরবনের আয়তন ও অবস্থান : সুন্দরবন ২১২ ডিগ্রি ত্রিশ ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশ থেকে ৮৯ ডিগ্রি শূন্য ইঞ্চি বা ৮৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ অবস্থিত । আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর পূর্বে সুন্দরবন ১৬৭০০ বর্গ কিলো মিটার এলাকাব্যাপী বিস্তৃত ছিল । কিন্তু বর্তমানে এর আয়তন সংকুচিত হয়ে গেছে । বর্তমানে এ বনভুমির আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার । সমস্ত সুন্দরবন দুটি বন বিভাগের অন্তর্ভুক্ত । এখানে চারটি প্রসাসনিক রেঞ্জ রয়েছে এবং ১৬ টি ফরেস্ট স্টেশন ।

সুন্দরবনের জলবায়ু : সুন্দরবনের ভূভাগ হিমালয় পর্বতের ভুমিক্ষজনিত জমা পলি থেকে সৃষ্টি । ভূ-বিজ্ঞানীরা এখানকার ভূমির গঠন বিন্যাসে দক্ষিণ পূর্ব দিকে সামান্য ঢালের সন্ধান পেয়েছেন । কূপ খনন গবেষণা থেকে দেখা যায় সুন্দরবনের পশ্চিম এলাকা তুলানামুলক স্থির । তবে দক্ষিণ পূর্ব দিকের একটি অংশ ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে । বাংলাদেশের অভ্যন্তরের তুলনায় সুন্দরবনের মাটি একটু আলাদা ধরনের । জোয়ার ভাটার কারণে এখানকার পানিতে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বেশি । এখানসকার মাটি পলিযুক্ত দোয়াশ ।

সুন্দরবনের উদ্ভিদ : সুন্দরবনের উদ্ভিদকুল বৈচিত্র্যময় । এখানকার অধিকাংশ গাছপালা ম্যানগ্রোভ ধরনের । এখানে রয়েছে বৃক্ষ , লতাগুল্ম , ঘাস , পরগাছা , ইত্যাদি উদ্ভিদ । উদ্ভিদ বিজ্ঞানী ডি. প্রেইন সুন্দরবনের ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ আছে বলে উল্লেখ করেছেন । পৃথিবীতে এ পর্যন্ত সন্ধানপ্রাপ্ত ৫০ টি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মধ্যে সুন্দরবনের আছে ৩৫ টি । সুন্দরবনের উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে সুন্দরী , গরান , গেওয়া , কেওড়া , পশুর , ধুন্দল , বাইন ইত্যাদি । এছাড়াও সুন্দর বনের প্রায় সব খানেই জন্মে গোল পাতা ।

উপসংহার : শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবির মতো সুন্দর বাংলাদেশ । বাংলাদেশের সৌন্দর্যের কোনো তুলনা হয় না । ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক উভয় দিক থেকেই আমাদের দেশ সমৃদ্ধ । আমরা অনেকেই টাকা খরচ করে দেশের বাইরের সৌন্দর্য দেখতে যাই । কিন্তু আমাদের দেশ যে সৌন্দর্যের লীলাভুমি তা হয় তো অনেকেই জানি না । দেশকে ভালোভাবে চিনে জেনে দেশের সৌন্দর্য উপভোগ আমাদের তৎপর হওয়া উচিত ।

আমাদের banglatipsbd সাইটে আসার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ । আশা করি আমাদের আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে । আপনার সুন্দর একটা মতামত দিন আমাদের সাইট সম্পর্কে । আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে কোন প্রকার হেল্প নিতে চান তাহলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত হয়ে থাকেন । আপনাদের মন চাইলে আপনারা আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো দিয়ে রাখতে পারেন আর হ্যাঁ পারলে আমাদের ইউটুব চ্যানেল থেকে ঘুরে আসতে পারেন । আবারো ধন্যবাদ জানাই আপনাকে এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *